ফেসবুকের মাধ্যমে কীভাবে ইনকাম করবেন?

14

প্রস্তাবনা: ফেসবুক শত্রু নাকি ফেসবুক বন্ধু?

একথা বললে বেশি বলা হবে না যে, আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটে ফেসবুকে কানেক্ট থাকা অবস্থায়। ফেসবুকের অপব্যবহারের ফলে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ঘটছে কত কত ঘটনা। ধর্ষণ, ইভটিজিং, হয়রানি ইত্যাদি নানারকম সমস্যায় পড়ছে অনেকেই প্রতিনিয়ত, প্রতিদিনই।

কিন্তু ফেসবুক তো এই জন্য তৈরি হয়নি। ইস্পাতের ছুরি যখন একজন ডাক্তারের হাতে থাকে তখন সেটা হয়ে উঠে জীবনদানকারী আবার এই ছুরি-ই যখন একটা চোর-বাটপার-ছিনতাইকারীর হাতে পড়ে তখন সেটা হয়ে যায় জীবন ধ্বংসকারী।

আমার মতে ফেসবুক আসলে সেরকমই। আপনি যদি এটাকে ভালো কাজে লাগান তাহলে এটা আপনার আশির্বাদ বয়ে আনবে। আবার অপব্যবহারে এটা হতে পারে আপনার ক্ষতির কারণ। এখন কীভাবে ফেসবুক ব্যবহার করবেন সেটা আপনারই বিবেচনা।

আজকের আমাদের এই লেখায় ফেসবুকের কিছু পজিটিভ দিক তুলে ধরবো। ফলে আশা করবো, এখন থেকে ফেসবুক আপনার কাছে শুধু আড্ডাবাজীর জায়গাই হবে না, ফেসবুক টাকা ইনকামেরও একটা ব্যবস্থা করে দেবে আপনার জন্য। চলুন সেসব কিছু গাইডলাইন-ই জানবো আজকে।

বিদেশী বন্ধু আছে আপনার লিস্টে?

ফেসবুকে কিছু বিদেশী বন্ধু তৈরি করে নিন। যারা হচ্ছে আপনার এসেট। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্নরকম সহযোগিতা পাবেন। যা এক কথায় এখানে বলে শেষ করা যাবে না। সময়ে সময়ে এই সহযোগিতা টের পাবেন। যা আপনার অনেক কাজে লাগবে। সুতরাং বিভিন্ন বিদেশী ফ্যানপেজে যান, সেগুলোর সাথে যুক্ত থাকুন, পড়ুন। বিভিন্ন জনের দেয়া বিভিন্ন স্ট্যাটাসে কমেন্ট করুন, কমেন্টের গঠনমূলক রিপ্লাই দিন। দেখবেন তাদের সাথে আপনার একটা সখ্যতা গড়ে উঠবে। যা ভবিষ্যতের সাঁকো হিসেবে বিরাট ভূমিকা পালন করবে।

গ্রুপ বা ফ্যানপেজ আছে আপনার?

ফেসবুকের দু’টো বড় বিষয় হচ্ছে- ১. ফেসবুক গ্রুপ এবং ২. ফেসবুক ফ্যান পেজ। এগুলো সম্পর্কে যদি আপনার ধারণা না থাকে তাহলে গুগলে সার্চ দিন। খুব সহজেই জেনে যাবেন, বুঝে ফেলবেন।
তো যা বলছিলাম- আপনি যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জানেন সেই বিষয়ে এক বা একাধিক গ্রুপ এবং ফ্যানপেজ ওপেন করুন ফেসবুকে। এবং ঐ গ্রুপগুলোতে নিয়মিত তথ্য প্রদান করুন। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার কমিউনিটি বড় হচ্ছে।

কী লাভ কমিউনিটি বড় হলে?
একটা বিষয় সবসময় মনে রাখবেন- এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো- “মানুষ শক্তি”- Manpower. লোকবল যদি আপনার থাকে তাহলে আপনি অনেক কিছুই করতে পারবেন। কীভাবে?
এভাবে- ধরুণ আপনার কলমের উপর একটা ফেসবুক ফ্যানপেজ আছে। যেখানে গত এক বছর আপনি কলম নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেছেন। ফলে গত এক বছরে; ধরে নিই কমপক্ষে আপনার ফেসবুক ফ্যানপেজে এক লাখ লাইক আছে। মানে আপনার কমিউনিটি হচ্ছে এক লাখ মানুষের। তো এতোদিন ওরা আপনার দেয়া বিভিন্ন তথ্য পড়েছে, মজা পেয়েছে, ভালো লেগেছে বলেই তো ওরা আপনার সাথে এতোদিন আছে। ভেবে দেখুন সবাই কিন্তু কলম পছন্দ করে। এখন এই গ্রুপে যদি আপনি একটা পোস্ট দেন আপনি কলম বিক্রি করবেন, দেখবেন অনেকেই আগ্রহী কেনার জন্য। এবং মোটামুটি সবাই আপনাকে চেনে, বিশ্বাস করে। আপনার কথায় তাদের আস্থা আছে। তো দেখুন, যদি তাদের মাঝে মাত্র ১% লোকও আপনার কলম কিনে তাহলে আপনি মাত্র একটা পোস্ট/স্ট্যাটাস দিয়ে কতগুলো কলম বিক্রি করতে পারছেন?
আর আপনি যদি একটু বুদ্ধিমান হন, তাহলে বিক্রি করার জন্য আপনি আমাজন/ইবে বা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানী থেকে আনকমন টাইপের কিছু কলম মার্কেটিং করবেন। এতে কলম কেনা আগ্রহী মানুষের সংখ্যা অনেক অনেক বেড়ে যাবে… এবার বুঝতে পারছেন তো কীভাবে একটা ফেসবুক গ্রুপ বা ফেসবুক ফ্যানপেজ থেকে আয় করা যায়? আপনি জেনে অবাক হবেন এভাবে ফেসবুক ব্যবহার করে অনেকেই লাখ টাকা ইনকাম করছে অনায়াসে।

আপনি কি গ্রাফিক ডিজাইন জানেন?

হ্যাঁ, এটা আরেকটা বড় মাধ্যম ফেসবুকে টাকা ইনকাম করার। একটা ফ্যানপেজ বানান- “গ্রাফিক ডিজাইন শপ” বা “ফেসবুক কভার ফটো ডিজাইন” অথবা এই টাইপের কিছু নাম দিয়ে। এবার এখানে আপনার নিজের ডিজাইন কিছু ছবি/ডিজাইন আপলোড করুন ফেসবুকের কভার ফটো মাপের। আশা করি কভার ফটো কি সেটা আপনি জানেন।

এবার ফেসবুকে বিভিন্ন বিদেশী ফ্যানপেজ বা গ্রুপের মডারেটর বরাবর ম্যাসেজ দিন যে আপনি কভার ফটো ডিজাইন করেন। তাদের ফেসবুক গ্রুপ বা ফ্যানপেজের কভার ফটোটা আপনি সুন্দর করে ডিজাইন করে দেবেন খুবই স্বল্পমূল্যে। সাথে আপনার নিজের ফেসবুক ফ্যানপেজে যেসব ডিজাইন আছে সেই লিংক দেন তাকে স্যাম্পল হিসেবে দেখার জন্য। দেখবেন এভাবে কিছুদিন মার্কেটিং করলে ঠিকই কাজ পাওয়া শুরু করেছেন। মার্কেটপ্লেসে বিড করতে হচ্ছে না, কোনো ঝামেলা নেই। শুরুতে কাজ পেতে হয়তো একটু ঝামেলা হবে। কিন্তু দেখবেন ধীরে ধীরে আপনি ঠিকই কাজ পাচ্ছেন। এবং একটা সময়ে গিয়ে আপনাকে আর মার্কেটিং করতে হবে না। দেখবেন অটো কাজ পাচ্ছেন বিভিন্ন রেফারেন্সে।

আমার জানামতে অনেকেই এভাবে কাজ করে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করছেন। এরকম একজন হচ্ছেন- সাদমিন। এই আপুটি প্রতিটি কভার ফটো ডিজাইন করে দেন ৩০-৩৫ ডলার করে। সাথে প্রোফাইল ফটো ডিজাইন ফ্রি করে দেন তিনি। এবং মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি অর্ডার পান তিনি অনায়াসে।

দেখুন, এসব কভার ফটো ডিজাইন করতে গ্রাফিকসে তেমন দক্ষতার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। অনেক সময় ক্লায়েন্ট ফটো দিয়ে বলেন ফটোটা এডজাস্ট করে হালকা কিছু কাজ করে দেয়ার জন্য। যা আরও সহজ কাজ।
একজন নতুন ব্যক্তিও ইউটিউব ঘেটে হালকা কিছু ফটোশপ টিউটোরিয়াল দেখে কাজ শুরু করতে পারেন অনায়াসে। আশা করি আপনিও পারবেন। শুরুতে কাজ পেতে দেরি হলে হতাশ হবেন না। ইনশাল্লাহ সাকসেস হবেনই।

আজকে এই পর্যন্তই থাক। আগামীতে ফেসবুক দিয়ে ইনকাম করার আরও কিছু অভিনব পদ্ধতির কথা জানাবো আপনাদের। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

-------------------

লেখাটি সম্পর্কে আপনার সুচিন্তিত মতামত আমাকে আরও লিখতে উৎসাহী করবে। সুতরাং গঠনমূলক মন্তব্য করুন...